ইসলাম

শবে কদর শব্দের অর্থ কি

শবে কদর ইসলাম ধর্মের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় রাত, যা কুরআনে বিশেষভাবে উল্লেখিত হয়েছে।শবে কদর শব্দের অর্থ কিএই রাতকে “হাজার মাসের চেয়ে উত্তম” বলা হয়েছে, যার অর্থ এই রাতে ইবাদত করলে ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদতের সমান সওয়াব লাভ করা যায়।

শবে কদর শব্দের অর্থ কি?

শবে কদর আরবি শব্দ যা “লাইলাতুল কদর” (لَيْلَةُ الْقَدْرِ) থেকে এসেছে, যার অর্থ “সম্মানিত রাত” বা “ভাগ্য নির্ধারণের রাত বা ভাগ্য রজনী”।

এটি রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে একটি, এবং বিশেষভাবে ২৭ রমজানকে শবে কদর হিসেবে ধরা হয়। তবে নিশ্চিতভাবে এর তারিখ জানা যায় না।

শবে কদরের গুরুত্ব ও ফজিলত?

১. কুরআন অবতরণ

এই রাতেই মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ বলেনঃ “নিশ্চয়ই আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি লাইলাতুল কদরে।” (সূরা আল-কদর: ১)

২. হাজার মাসের চেয়ে উত্তম

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।” (সূরা আল-কদর: ৩)

হাজার মাস মানে প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাস। অর্থাৎ, এই এক রাতের ইবাদতের সওয়াব হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে বেশি।

৩. গুনাহ মাফের সুযোগ

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি শবে কদরের রাতে ঈমান ও সওয়াবের আশায় ইবাদত করবে, তার আগের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০১৪)

৪. ফেরেশতাদের আগমন

এই রাতে ফেরেশতারা পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং সারা রাত শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করেন।

“সে রাতে ফেরেশতারা ও রুহ (জিবরাইল আ.) তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজে অবতরণ করেন। এটি শান্তিতে ভরা রাত, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।” (সূরা আল-কদর: ৪-৫)

শবে কদর কখন?

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ “তোমরা শবে কদরকে রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে অনুসন্ধান করো।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০১৭)

তাই শবে কদর হতে পারে ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ রমজানের রাতে। তবে অনেক ইসলামিক স্কলার ও সাহাবি ২৭ রমজানকেই বেশি সম্ভাব্য মনে করেন।

শবে কদরে করণীয় আমল?

এই রাতে বেশি করে ইবাদত করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষভাবে কিছু আমলের নির্দেশ দিয়েছেনঃ

১. নফল নামাজ পড়া

  • ২, ৪, ৬, ৮ বা ১২ রাকাত নফল নামাজ পড়া
  • নামাজের পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা

২. কুরআন তিলাওয়াত

  • কুরআন বেশি করে তিলাওয়াত করা
  • অর্থ বুঝে পড়ার চেষ্টা করা

৩. দোয়া ও ইস্তিগফার করা

আয়েশা (রা.) বলেছেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, শবে কদরে কী দোয়া পড়তে হবে?

রাসুল (সা.) বলেনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি”

(হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসো, আমাকে ক্ষমা করে দাও)। (তিরমিজি: ৩৫১৩)

৪. দরুদ শরিফ পাঠ

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা

৫. তাসবিহ-তাহলিল করা

  • সুবহানাল্লাহ (পবিত্র আল্লাহ)
  • আলহামদুলিল্লাহ (সব প্রশংসা আল্লাহর)
  • আল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান)
  • লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই)

৬. গরিব-দুঃখীদের সহায়তা করা

সদকা-দান ও গরিবদের সহায়তা করলে আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়।

আরও পড়ুনঃ শবে কদরের নামাজের দোয়া

শবে কদরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য?

  • কুরআন নাজিলের রাত
  • হাজার মাসের চেয়ে উত্তম
  • ফেরেশতারা দুনিয়ায় আগমন করেন
  • গুনাহ মাফের সুযোগ
  • সারা রাত রহমত ও শান্তিতে ভরপুর

শেষ কথা

শবে কদর মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় রাত। এই রাতে আল্লাহ তায়ালা অগণিত রহমত ও মাগফিরাত দান করেন। তাই আমাদের উচিত এই রাতে বেশি বেশি ইবাদত করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button