শাহজালালে পৃথক অভিযানে সাড়ে ১৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক দুটি অভিযানে প্রায় সাড়ে ১৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে একটি ঘটনায় মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এক যাত্রীর কাছ থেকে ৪ দশমিক ৫ কেজি এবং অন্য ঘটনায় দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৯ দশমিক ৩৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
দুই অভিযানে উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট পরিমাণ ১৩ দশমিক ৮৪ কেজি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হিসাবে এসব স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকা কাস্টমস, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের পৃথক অভিযানে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি জানিয়েছে।
বিমানকর্মীদের জুতায় মিলল ৯.৩৪ কেজি স্বর্ণ
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, দুবাই থেকে ঢাকায় আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-০৫৮২ ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মীর চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে তাদের তল্লাশি করা হয়।
আরো পড়ুনঃ জাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ১৭ জানুয়ারি
তল্লাশির একপর্যায়ে তাদের জুতার ভেতরে লুকানো অবস্থায় ৮০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি স্বর্ণবারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের ওজন প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি।
বিমানকর্মীদের জুতার ভেতরে স্বর্ণবার লুকিয়ে আনার বিষয়টি সামনে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কাস্টমস গোয়েন্দারা। এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র জড়িত আছে কি না, থাকলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের শনাক্ত করা যায় কি না—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মালয়েশিয়া থেকে আসা যাত্রীর কাছ থেকে ৪.৫ কেজি স্বর্ণ
অন্যদিকে শনিবার দিবাগত রাতে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় আসা মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এমএইচ-০১৯৬ ফ্লাইটের এক যাত্রীর কাছ থেকে ৪ দশমিক ৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস।
আটক যাত্রীর নাম মি. ইয়াং ডন সিউ। তিনি মালয়েশিয়ার নাগরিক বলে কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণের পর থেকেই ওই যাত্রীর ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল। পরে তিনি ব্যাগেজ সংগ্রহ করে গ্রিন চ্যানেল-১ অতিক্রম করার সময় তাকে আলাদাভাবে তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির সময় তার শরীরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণবারের সন্ধান পাওয়া যায়। আনুমানিক রাত ১টা ৪৫ মিনিটে তার কাছ থেকে ৯টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
কাস্টমস সূত্র আরও জানায়, স্বর্ণবারগুলো একটি কালো কাপড়ের বেল্টে মোড়ানো অবস্থায় ওই যাত্রীর শার্টের নিচে শরীরের সঙ্গে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তিনি কোনো ব্যাগেজ ঘোষণা দেননি। একই সঙ্গে স্বর্ণের বৈধতার পক্ষে প্রয়োজনীয় কোনো নথি বা দলিলও দেখাতে পারেননি।
মামলা প্রক্রিয়াধীন
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের পৃথক অভিযানে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। উভয় ঘটনায়ই ফৌজদারি মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দারা বলছেন, স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্র শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: ঢা.পো.
আরো পড়ুনঃ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ২৩৪ জনের নিয়োগ, আবেদন শুরু ৩০ সেপ্টেম্বর